সাভারের বাইপাইলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের নবনির্মিত বিএনসিসি একাডেমি, সামরিক প্রশিক্ষক কমপ্লেক্স ও ক্যাডেট ডাইনিংয়ের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) বেলা ৩ টায় বিএনসিসি একাডেমি, সামরিক প্রশিক্ষক কমপ্লেক্স ও ক্যাডেট ডাইনিংয়ের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএনসিসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাহিদুল ইসলাম খান।
 
রমনা রেজিমেন্টের রেজিমেন্ট এডজুটেন্ট মেজর সোমেন কান্তি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে বিএনসিসি ক্যাডেটদের নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। ক্যাডেটরা এখানে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। দেশ ও জাতিকে শান্তি এবং যুদ্ধকালীন সময়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেবা প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এসময় তিনি আরো বলেন, লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৈতিক চরিত্রের উন্নয়ন ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের লক্ষে সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নমূলক কাজে স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব নিয়ে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাবে। তার সঙ্গে বিএনসিসির প্রতিটি ক্যাডেট সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে রমনা রেজিমেন্টের রেজিমেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাহাত নেওয়াজ বলেন, আজ আমাদের আনন্দঘণ মুহূর্ত। আমরা জানি মানুষের জীবনে পাঁচটি মোলিক চাহিদা খাদ্য, বস্তু, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা।
 
আমাদের যারা সামরিক প্রশিক্ষক আছেন দীর্ঘদিন ধরে তাদের থাকার জন্য বাসস্থান সমস্যা ছিল আজ বিএনসিসি একাডেমি সামরিক প্রশিক্ষক কমপ্লেক্স উদ্বোধনের মাধ্যমে সেই সমস্যা আর থাকবে না।
 
সেই সাথে ‘আমিই বঙ্গবন্ধু’ অনুষ্ঠানে বিএনসিসি মহাপরিচালক এসে দেখলেন পুরুষ ক্যাডেটদের খবারের জন্য কোন ডাইনিং ব্যাবস্থা নেই তখন তিনি আমাদের ক্যাডেটদের ডাইনিং ব্যবস্থা করতে বল্লেন। ডিজি স্যারের নির্দেশনায় আমরা সেই কাজ সম্পূর্ণ করি। আজ সেই ক্যাডেট ডাইনিং শুভ উদ্বোধন হয়েছে। এখন থেকে ক্যাডেটদের খাবার ডাইনিং নিয়ে আর কোন সমস্যা হবে না।
 
 
সামরিক প্রশিক্ষক ল্যান্স কর্পোরাল সেলিম বলেন, আগে আমাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল না। রোদ, বৃষ্টি মধ্যে আমাদের তাবুতে থাকতে হতো। বাতাসে আমাদের বিছানায় বালিতে ভরে যেত বৃষ্টির সময় পানিতে বিছানা ভিজে যেত।
 
আমাদের অনেক কষ্টে তাবুতে থাকতে হতো। ডিজি মহোদয়ের নির্দেশনায় আমাদের থাকার জন্য সামরিক প্রশিক্ষক কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। এখন থেকে আমাদের আর তাবুতে থাকতে হবে না। এ জন্য আমাদের সামরিক প্রক্ষিকদের পক্ষ থেকে বিএনসিসি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাহিদুল ইসলাম খান স্যারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
 
ক্যাডেট কর্পোরাল সজিব বলেন, আমি ২০১৭ সালে এখানে আরটি ক্যাম্পে এসেছিলাম তখন আমাকে তাবুতে থাকতে হয়েছিল। তখন ক্যাডেটদের জন্য থাকার জন্য কোন বিল্ডিং ছিল না এবং খাবার জন্য কোন ডাইনিং ছিল না।
 
কিন্তু আজ এসে দেখতে পেলাম ক্যাডেটদের থাকার জন্য বিল্ডিং এবং খাবারের জন্য ডাইনিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্যাডেটদের জন্য এমন ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য বিএনসিসি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাহিদুল ইসলাম খান স্যারকে ক্যাডেটদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।
 
এসময় মেজর সফিউল, মেজর আব্দুস ছামাদ, মেজর হামিদ, মেজর ফারুক, মেজর এস এম বদরুল হাসান শামীমসহ বিভিন্ন প্লাটুনের বিএনসিসিও, পিইউও এবং সিইউও মোঃ মামুন শেখ, সিইউও হাসিব সোহেল, ক্যাডেট সার্জেন্ট সাখাওয়াতসহ সামরিক প্রশিক্ষক ও বিএনসিসি ক্যাডেটবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।